• ডিসেম্বর 07 2022

যেহেতু বিশ্ব আরও ডিজিটাল উদ্ভাবনকে বরণ করতে প্রস্তুত, ভারতের কাছে আফ্রিকার ডিজিটাল বিপ্লবে অবদান রাখার ইচ্ছা ও ক্ষমতা প্রদর্শনের একটি সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

আফ্রিকা,ভারত,সাইবার নিরাপত্তা ও ইন্টারনেট শাসন,আন্তর্জাতিক বিষয়,কৌশলগত অধ্যয়ন

গত দশকের একটি ফ্যাশনেবল প্রবণতা হল উন্নয়নশীল দেশগুলিতে ডিজিটাল উদ্ভাবন ও মোবাইল ফোনের মালিকানার বৃদ্ধি, বিশেষ করে সাব–সাহারান আফ্রিকার দেশগুলিতে এবং ভারতে৷ ক্রমশ বেশি করে বিভিন্ন দেশ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও উন্নয়নের পথে এগোতে ডিজিটাল সমাধান ও উদ্ভাবনের দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু একটি মহাদেশ হিসাবে আফ্রিকা এখনও ডিজিটাল অনুপ্রবেশ, ব্যবহার ও সক্ষমতার ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের ডিজিটাল পরিপক্বতার স্তরে পৌঁছতে পারেনি। আফ্রিকা এখনও তার ডিজিটাল পরিকাঠামোর দিক থেকে বিশ্বের অনেক জায়গার তুলনায় পিছিয়ে আছে। যাই হোক, একথা স্বীকার করা প্রয়োজন যে ভৌগোলিক বিভাজন থাকা সত্ত্বেও ডিজিটাল ও উদীয়মান প্রযুক্তি মহাদেশটিকে ঐক্যবদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

আজ আফ্রিকা মহাদেশ উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একটি বিপুল সম্ভাবনাময় অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করে, যে তার কিছু জরুরি চাপ মোকাবিলার চাহিদা পূরণ করার এবং বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর সুযোগের বিকাশ ঘটাতে চায়। মহাদেশ জুড়ে ইতিমধ্যেই সেন্সর, নেটওয়ার্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের ক্রমশ বেশি করে বিস্তার ঘটেছে। এই কারণে বেশ কিছু উদীয়মান প্রযুক্তির প্রসার ঘটছে, যেমন ড্রোন, ফেসিয়াল রেকগনিশন–সহ সিসিটিভি ক্যামেরা, স্মার্ট সিটি ইত্যাদি। ড্রোনগুলি দূরবর্তী স্থানে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করছে, যেমনটি আমরা জিপলাইন–এর ক্ষেত্রে দেখেছি।

আফ্রিকা মহাদেশ উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একটি বিপুল সম্ভাবনাময় অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করে, যে তার কিছু জরুরি চাপ মোকাবিলার চাহিদা পূরণ করার এবং বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর সুযোগের বিকাশ ঘটাতে চায়।

আফ্রিকায় ইন্টারনেট বিস্তারের ক্ষেত্রে মরক্কো, সেশেলস, মিশর, কেনিয়া ও তানজানিয়ার মতো দেশগুলি চিত্তাকর্ষক ইন্টারনেট বিস্তারের মাত্রা নিয়ে গর্ব করে৷  দক্ষিণ আফ্রিকা ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলিতেও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগের একটি পরিমিত স্তর রয়েছে। কিন্তু মালি, মোজাম্বিক, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, নাইজার এবং চাদের মতো দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ কম। মোবাইল ফোন ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য একটি প্রাথমিক প্ল্যাটফর্ম, এবং তা ব্যবহারকারীদের ই–কমার্স পরিচালনা করতে দেয়। কিন্তু সাব–সাহারান আফ্রিকা জুড়ে বেশিরভাগ মানুষের মোবাইল ফোনের মালিকানা থাকলেও স্মার্টফোনের ব্যবহার কম থেকে গেছে

বর্তমানে, আফ্রিকার জনসংখ্যার মাত্র এক–চতুর্থাংশের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, তবে আশা করা হচ্ছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে আফ্রিকা বাকি বিশ্বের সঙ্গে মোটামুটি সমতা অর্জন করবে। ততদিনে আফ্রিকানদের তিন–চতুর্থাংশের কাছে ইন্টারনেট উপলব্ধ থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সেই সব আফ্রিকান দেশ যারা ট্রেসিং, ট্র্যাকিং ও চিকিৎসার মাধ্যমে সফলভাবে ইবোলার মতো রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, তারা যে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগের উপর নির্ভর করেছে তার প্রমাণ আছে। অতএব স্বাস্থ্য-অতিমারির বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং দুর্বল মানুষ ও সম্প্রদায়গুলির সনাক্তকরণ নিশ্চিত করতে আফ্রিকার প্রযুক্তিসক্ষম ও ডিজিটাইজড হওয়া অপরিহার্য।

আফ্রিকার সরকারগুলির ইন্টারনেট সংযোগ বাড়ায় এমন নীতি তৈরি করার উপর জোর দেওয়া এবং সেগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনই সামর্থ্য, ন্যায়সঙ্গত উপলব্ধতা ও সাইবার নিরাপত্তার উপরেও সমানভাবে জোর দেওয়া উচিত। ক্রমবর্ধমান ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কভারেজ সত্ত্বেও মোবাইল ডেটা কেনা আফ্রিকার অনেক দেশে একটি ব্যয়বহুল ব্যাপার। উদাহরণস্বরূপ, সাও টোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপ দেশটিতে ১ জিবি মোবাইল ডেটার দাম ২৯ মার্কিন ডলার, আর বতসোয়ানায় এর দাম প্রায় ১৬ মার্কিন ডলার। টোগো ও নামিবিয়ার মতো নানা দেশের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এই ধরনের ব্যয়বহুল ডেটা প্যাক অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাকে বাধা দেয়।

এই ছবিটির মধ্যে ভারত কোথায় আসে?

ভারত ও আফ্রিকান দেশগুলি ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, যেমন কম ইন্টারনেট সংযোগ, ডিজিটাল বিভাজন ও দক্ষতার অপ্রাচুর্য। সব মিলিয়ে মহাদেশের ডিজিটাল ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ভারতের দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল অর্থনীতি থেকে উপকৃত হবে। দক্ষিণ–দক্ষিণ সহযোগিতা-কাঠামোর অধীনে ভারতের ডিজিটাল বিপ্লব থেকে আফ্রিকার শেখার প্রচুর সম্ভাবনা আছে

আফ্রিকার সরকারগুলির ইন্টারনেট সংযোগ বাড়ায় এমন নীতি তৈরি করার উপর জোর দেওয়া এবং সেগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেমন প্রয়োজন,তেমনই সামর্থ্য, ন্যায়সঙ্গত উপলব্ধতা ও সাইবার নিরাপত্তার উপরেও সমানভাবে জোর দেওয়া উচিত।

যেহেতু ডিজিটাল পরিচয় থাকাটাই ডিজিটাল অর্থনীতিতে কাজ করার মূল ভিত্তি, তাই সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত সফলভাবে ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ চালু করেছে। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল সনাক্তকরণ প্রোগ্রাম চালু করেছে — আধার — যার আক্ষরিক অর্থ হল ভিত্তি৷ আধার সিস্টেম ইতিমধ্যে ১ বিলিয়ন ভারতীয়কে নথিভুক্ত করেছে। এটি ক্লাউড প্রযুক্তি ব্যবহার করে যা বায়োমেট্রিক তথ্য ও জনসংখ্যার উপর ভিত্তি করে একটি অনন্য ১২–সংখ্যার সনাক্তকরণ নম্বর দেয়। এটি ভারতীয় সরকারকে ব্যক্তিদের ব্যাঙ্কিং লেনদেন, ইউটিলিটি বিল, ফোন নম্বর এবং প্রকৃত ঠিকানা লিঙ্ক করতে সক্ষম করেছে।

আফ্রিকার একটি তুলনামূলক উদাহরণ হল ‘‌ঘানা কার্ড’‌, যা জনসাধারণের পরিষেবাও সরবরাহ করে;‌ কিন্তু এই মুহূর্তে তার তালিকাভুক্তি ও বিতরণ সীমিত। মুদ্রণ কেন্দ্রও সীমিত। কিন্তু ঘানা কার্ডের ডেটা ম্যানেজমেন্টের জন্য ক্লাউড প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে ঘানার ভারতের আধার থেকে শেখার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে, কারণ এই প্রযুক্তি প্রচুর পরিমাণে ডেটা তৈরি করে। কিন্তু আধার কার্ডের বিপরীতে ঘানা কার্ড একটি জাতীয় পরিচয় হিসাবে ব্যবহৃত হয়, এবং এর ধারকদের নাগরিকত্ব প্রদান করে।

আফ্রিকার অন্যান্য বিশিষ্ট উদাহরণ হল কেনিয়ার ‘‌এম–পেসা’‌, যার পরিষেবা এখন আফ্রিকার সাতটি দেশে ৫১ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের কাছে উপলব্ধ৷ আরেকটি হল নাইজেরিয়ার ‘‌জুমিয়া গ্রুপ’‌, যেটি ২০১২ সালে রকেট ইন্টারনেট দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং আফ্রিকার সেরা অর্থায়িত ই–কমার্স স্টার্ট–আপগুলির মধ্যে একটি। এটি মোটরবাইক ও ট্রাকের এমন একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে যা গ্রাহকদের কাছে পণ্য সরবরাহ করে।

ভারত ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’-র মতো ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্যে অন্যান্য অনন্য ডিজিটাল উদ্যোগও চালু করেছে, যা সারা দেশে অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন করে গ্রামীণ ভারতের বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ইন্টারনেট সংযোগ এনেছে।

২০১৫ সালে ভারত একটি উদ্যোগ তৈরি করেছিল যা দক্ষতা–সম্পর্কিত কার্যকলাপের একটি বিস্তৃত কাঠামো প্রদান করেছিল। ডিপ্লোমা কোর্সের মাধ্যমে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা ছিল এর মূল লক্ষ্যগুলির মধ্যে একটি। অন্যান্য উদ্যোগের মধ্যে আছে ভারতনেট, প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা, ইন্ডিয়াস্ট্যাক ইত্যাদি। যদি এই ধরনের ভারতীয় উদ্যোগগুলি আফ্রিকার দেশগুলিতে সঠিকভাবে অনুকরণ ও প্রয়োগ করা যায়, তাহলে তা আফ্রিকার ডিজিটাল ব্যবধান পূরণ করতে এবং তরুণ আফ্রিকানদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সাহায্য করতে পারে। যদিও ভারত আফ্রিকার দেশগুলির সঙ্গে তার জ্ঞান ও ব্যবসায়িক কৌশল ভাগ করে নিতে আগ্রহী, তবে তাদেরও আরও বেশি আইটি–দক্ষ ব্যক্তি তৈরি করতে হবে যারা ভারতীয় সমকক্ষদের কাছ থেকে শিখতে পারে এবং স্থানীয় প্রয়োজনের ভিত্তিতে তা প্রয়োগ করতে পারে।

ভারত সরকার আগামী পাঁচ বছরে বিনামূল্যে ৪,০০০–এরও বেশি টেলি শিক্ষা কোর্স প্রদান করবে, এবং প্রতি বছর ১,০০০–এরও বেশি আফ্রিকান ডাক্তার, নার্স ও প্যারামেডিক্যাল কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষার ব্যবস্থা করছে।

ভারত–আফ্রিকা ডিজিটাল প্রযুক্তি সহযোগিতার সবচেয়ে সফল উদাহরণ হল প্যান আফ্রিকান ই–নেটওয়ার্ক প্রোজেক্ট (পিএইএনপি) যা ৪৮টি আফ্রিকান দেশে চালু ছিল। আফ্রিকার দেশগুলিকে ভারতীয় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ও প্রিমিয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে এটি বিরামহীন ও সমন্বিত উপগ্রহ, ফাইবার অপটিক্স ও অয়্যারলেস নেটওয়ার্ক সরবরাহ করে। এই প্রকল্পটির মেয়াদ ২০১৮ সাল থেকে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, এবং এটি টেলিমেডিসিন ও টেলি শিক্ষা সম্পর্কিত ই–বিদ্যাভারতী ও ই–আরোগ্যভারতী (ই–ভিবিএবি) প্রকল্প হিসাবে পরিচিত। এই প্রকল্পের অংশ হিসাবে ভারত সরকার আগামী পাঁচ বছরে বিনামূল্যে ৪,০০০–এরও বেশি টেলি শিক্ষা কোর্স প্রদান করবে, এবং প্রতি বছর ১,০০০–এরও বেশি আফ্রিকান ডাক্তার, নার্স ও প্যারামেডিক্যাল কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষার ব্যবস্থা করছে। ভারতীয় ডাক্তাররাও আফ্রিকার ডাক্তারদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করেন। এই প্রকল্পটি ভারত ও আফ্রিকার মধ্যে জ্ঞান ও স্বাস্থ্যের ডিজিটাল সেতু হিসাবে জনপ্রিয়।

আফ্রিকা ও ভারত উভয়েরই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও), আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডার, ও বিশ্বব্যাঙ্কের মতো বিশ্ব পরিচালন প্রতিষ্ঠানগুলিতে দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রচেষ্টা সমন্বয়ের একটি দীর্ঘ ইতিহাস আছে। বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে গণতান্ত্রিক সংস্কার অপরিহার্য, এবং সেই কারণেই ভারত দৃঢ়ভাবে দাবি করে চলেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের জন্য কার্যকরী ব্যবস্থাগ্রহণ, যা কমন আফ্রিকান পজিশন ও  ইজুলউইনি ঐকমত্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

২০১৮ সালে গুরুত্বপূর্ণ হয়েছিল ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশনের ক্ষেত্রে কাস্টম শুল্কের উপর স্থগিতাদেশের ইস্যু, যা উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিযোগিতার ক্ষমতা হ্রাস করতে পারে, যেহেতু তাদের ভৌত পণ্যের উপর উচ্চ শুল্ক রয়েছে। ডিজিটাল আকারে একই পণ্য শূন্য শুল্ক আকর্ষণ করে। পরবর্তীকালে ভারত ও আফ্রিকা ক্রমাগত সতর্ক করেছে যে উন্নত দেশগুলি ডব্লিউটিও কাঠামোর বাইরে ই–কমার্সের নিয়ম তৈরি করার চেষ্টা করলে তা ঐকমত্য নীতিকে দুর্বল করবে।

সম্প্রতি একই ঘটনা ঘটেছিল যখন উন্নত দেশগুলি উন্নয়নশীল দেশগুলিতে কোভিড–১৯ ভ্যাকসিনের উৎপাদন ও আমদানি সম্পর্কিত বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকার বিধিগুলি সাময়িকভাবে স্থগিত করার জন্য ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার যৌথ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল।

আফ্রিকা ও ভারত উভয়েরই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও), আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডার, ও বিশ্বব্যাঙ্কের মতো বিশ্ব পরিচালন প্রতিষ্ঠানগুলিতে দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রচেষ্টা সমন্বয়ের একটি দীর্ঘ ইতিহাস আছে।

ডিজিটাল ক্ষমতায়ন ভারত–আফ্রিকা অংশীদারি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসাবে উঠে এসেছে। বছরের পর বছর ধরে ভারতীয় বেসরকারি বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি অনুদান ও ঋণ–সহ বিভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে আফ্রিকার দেশগুলির বৃদ্ধিতে সহায়তা করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করেছে। কেনিয়াবতসোয়ানায় ভারত আইটি শিক্ষায় বিনিয়োগ করেছে। ঘানা, তানজানিয়া ও উগান্ডার মতো দেশগুলি উচ্চ–ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার পেয়েছে। ভারত আক্রায় ঘানা–ইন্ডিয়া কোফি আন্নান সেন্টার অফ এক্সিলেন্স ইন ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস টেকনোলজি স্থাপনে সহায়তা করেছে, এবং ইথিওপিয়াতে অনুরূপ একটি আইটি কেন্দ্র স্থাপনের জন্য চুক্তি করেছে। এই ধরনের উদাহরণগুলি আফ্রিকার ডিজিটাল বিপ্লবে অবদান রাখার জন্য ভারতের ইচ্ছা ও ক্ষমতা প্রদর্শন করে।

একটি বৃহৎ যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতন্ত্র হওয়ায় ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে ভারতের নিজস্ব অভিজ্ঞতা আফ্রিকার দেশগুলির চ্যালেঞ্জগুলি বোঝার জন্য অন্য এশীয় বা পশ্চিমী দেশগুলির তুলনায় আরও সম্পর্কিত মডেল হিসাবে কাজ করে। যেহেতু বিশ্ব আরও ডিজিটাল উদ্ভাবনকে বরণ করতে প্রস্তুত, ভারতের কাছে আফ্রিকার ডিজিটাল বিপ্লবে অবদান রাখার ইচ্ছা এবং ক্ষমতা প্রদর্শনের একটি সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

মতামত লেখকের নিজস্ব।

Comments are closed.

সম্পাদক